দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শীতের আগাম সবজি শিম, ফুলকপি ও মুলাতে বাজার ভরতে শুরু করলেও দামে স্বস্তি নেই। নতুন সবজি উঠতে শুরু করার পরও অধিকাংশ সবজি কিনতে গুনতে হচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কোনো কোনো সবজির দাম আরও বেশি। এর মধ্যে কিছুটা কমেছে কাঁচা মরিচের দাম। মাছ-মাংসের দামে পরিবর্তন নেই, তবে ডজনপ্রতি ১০ টাকা কমে ডিমের দাম নেমেছে ১৪০ টাকায়। সব মিলিয়ে বাজারে কিছু পণ্যে দাম কমলেও নিত্যপণ্যের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না ক্রেতাদের।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাজধানীর মালিবাগ, শেওড়াপাড়া ও রামপুরা এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, আগাম শীতকালীন সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৫০ টাকায়। প্রতি পিস ফুলকপি ৭০ টাকা এবং প্রতি কেজি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। ঢ্যাঁড়স, করলা, বেগুন, বরবটি, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
তুলনামূলক কম দামে শসা পাওয়া যাচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। তবে দেশি শসার কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। সবজির মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে, প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কয়েক সপ্তাহ আগে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম ২০০ টাকায় উঠেছিল। সরবরাহ বাড়ায় এখন মানভেদে তা বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।
অন্যদিকে, টমেটোর কেজি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। প্রতি পিস লাউ ৪০ থেকে ৬০ টাকা এবং কচুরমুখি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা ক্রেতা ব্যাংকার রাশেদুল আলম বলেন, ১৪০ টাকা দিয়ে দুই পিস ফুলকপি কিনেছেন। এ ছাড়া একটি লাউ ৫০ টাকা এবং এক পোয়া কাঁচা মরিচ ৪০ টাকায় কিনেছেন।
সবজির বাজারে চড়া দামের মধ্যেও ডিমের দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে ক্রেতাদের। বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়, যা আগের তুলনায় ১০ টাকা কম। চারটি ডিম পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টাকায়।
ডিম বিক্রেতা মাসুম আল হাসান বলেন, বর্তমানে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।
এদিকে মুরগির বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্রয়লার মুরগি বিক্রেতা মনির হোসেন বলেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্রয়লার মুরগির দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করছে। এক সপ্তাহে কেজিতে ১০ টাকা কমলে পরের সপ্তাহে আবার ১০ টাকা বেড়ে যায়। ফলে দাম ঘুরেফিরে ২০০ টাকার আশপাশেই থাকছে। সোনালি মুরগির দামও ৩১০ থেকে ৩২০ টাকার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, গরুর মাংসের দাম আগের মতোই রয়েছে। রাজধানীর বাজারগুলোতে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।
মাছের বাজারেও খুব একটা পরিবর্তন দেখা যায়নি। বাজারে প্রতি কেজি রুই ও কাতলা ৩৮০ থেকে ৪২০ টাকা, পাঙাশ ২২০ থেকে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা।
এ ছাড়া প্রতি কেজি মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং মাঝারি আকারের রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ট্যাংরা মাছের কেজি ৭০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা। প্রতি কেজি পোয়া মাছ ২৬০ টাকা, বাইম ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং শোল মাছ ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা।
কেএম